
পেসিং
Nipu Sen
23 April 2026
দৌড়ের সময় যারা গতি ধরে রেখে রানারদের এগিয়ে নিয়ে যায় সেই পেসারদের আর রানারদের নিয়ে আলাপ
পেসিং এর ক খ নিয়ে লিখবো বহু দিনের মনের ইচ্ছে ছিলো কিন্ত সব কিছু মিলিয়ে হয়ে উঠছিলো না, আর সামনে আরেকটা রানিং সিজন আসছে আর এখন যেহেতু সামার চলছে সবাই ট্রেইনিং করতে পারবে আর প্রস্তুত হইতে পারবে নিজেদের মতো করে, তাহলে এখনি সঠিক সময়!
যে কোন ইভেন্টের বা লং রানের পেসিং টাস্কে তিনটা গ্রুপ ইনভলড থাকে-
১। রেসের আয়োজক / ভলেন্টিয়ার
২। পেসার নিজে
৩। অংশ গ্রহণকারী রানাররা
সফল একটি পেসিং টাস্ক কমপ্লিট করার জন্য এই তিন এন্টীটিকে বা গ্রুপকে নিজেদের কাজ খুব ভালো করে বুঝতে হবে একই সাথে খুবই ছন্দবদ্ধ ভাবে নিজেদের কাজ করতে হবে তাহলে জিতে যাবে সবাই !
একজন পেসারের কাছে সব চেয়ে আনন্দের বিষয় - যখন কোন রানার সুস্থ ভাবে ফিনিশিং লাইন ক্রস করে আর নিজের সেরা টাইমিং বা কাঙ্খিত দূরত্ব অতিক্রম করার আনন্দ অর্জন করে নেয় ! আর একই সাথে সেই রানারের জীবনের সেরা একটা মুহূর্তের কারিগর হয়ে যায় তার পেসার, যতদিন সে রান করে তার সেই পেসারেকে সে মনে রাখে, আর অনেক সময় দোয়া ও করে !
তাহলে পেসিং আমার কাছে একটা ভলেন্টেয়ারিং জব মনে হয়, যে অন্যের জন্য করা হয়, তার আনন্দে আমার আনন্দ খুঁজে পাওয়ার মতো ব্যাপার, তাই যে এই কাজ করবে তাকে একজন অভিজ্ঞ রানার/ দৌড়বিদ হবার পাশাপাশি একজন ভালো লিডার/ ইনফ্লুয়েন্সার/ এম্পেথেটিক ( মানবিক) মানুষ হইতে হবে, একটা কমপ্লিট প্যাকেজ হবে একজন পেসার/ পেস সেটার pacer/ pace-setter
ধাপে ধাপে আমরা কিছু আলাপ করবো এখন, কিভাবে আমরা উইনার হইতে পারি পেসিং টাস্কে !
আয়োজকের ভূমিকা/ দায়িত্বঃ
১। যেহেতু ইভেন্টের প্রথম উদ্যোক্তা হইলো আয়োজক, তাই কঠিন কাজ আয়োজককেই করতে হবে। এর মধ্যে সব চেয়ে কঠিন কাজ পেসার বাছাই করা, রেসের সময়, ধরণ, দূরত্ব সব কিছু বিবেচনা করে সব চেয়ে যোগ্য পেসার আয়োজক ঠিক ঠাক নির্বাচন করলেই ৫০% সমস্যা সমাধান হয়ে যায় ! কিন্তু কিভাবে করবে?
প্রথমেই দেখতে হবে, যাকে আমি যে সময়ের বা স্লটের পেসার হিসেবে নিতে চাচ্ছি সে কতোটা ভালো ইমেজ ক্যারি করে কমিউনিটিতে বা কতোটা ভালো প্রভাব আছে তার, যতো ভালো প্রভাব ততো বেশি সম্ভাবনা থাকবে রানারদের তাকে ফলো করার, খুবই ভালো রানার কিন্তু পেসার হিসেবে রানারা তাকে গ্রহণ করলো না তবে শুরুতেই সব শেষ হয়ে যাবে !
২। আমি আয়োজক হিসেবে যাকে পেসার হিসেবে নিতে চাচ্ছি তার দৌড়ের স্বক্ষমতা কেমন ? তার রান ডাটা খুব ভালো করে স্টাডি করে তার পর সিদ্ধান্ত নিবো, একই সাথে তার ক্যাপাসিটির ৭০% কমপ্লিট করার দ্বায়িত্ব তাকে দিবো এবং অবশ্যই তার সাথে একাধিক বার কথা বলে নিবো কারণ সেও মানুষ । উদাহরণ দেই, যদি কোন রানার ২ ঘন্টায় হাফ ম্যারাথন সহজে শেষ করতে পারে তাকে আমি ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের বা ২ ঘন্টা ৪০ মিনিটের পেস বাস অফার করবো, এর ব্যাতিক্রম হইতে পারে যেমন পেসার যদি মনে করে সে ২ ঘন্টা ১০ মিনিটের চ্যালেঞ্জ নিতে চায় বা পেছনে গিয়ে ৩ ঘন্টার পেসিং করার দ্বায়িত্ব নিতে চায় তবে আলোচনা সাপেক্ষে তাকে দ্বায়িত্ব দেয়া যাইতে পারে ।
৩। এর পরের ধাপটা বেশ চ্যালেঞ্জিং, যারা পেসার হিসেবে পরিচিত মুখ তারা হয়তো অনেক কিছুই বোঝেন বা করতে পারেন কিন্তু যারা নতুন তাদের ট্রেইনিং করানো আয়োজকের দ্বায়িত্ব। কিভাবে তারা পেস ম্যানেজ করবে, রানারদের সাথে যোগাযোগ করবে, কিভাবে তাদের মোটিভেট করবে, একটা পেস বাসে ভিন্ন ভিন্ন বয়সের মানুষ থাকতে পারে, কার সাথে কিভাবে যোগাযোগ করতে হবে তা শিখার মূল যায়গা হবে পেসারদের জন্য আয়োজন করা ট্রেইনিং ক্যাম্প, সিনিয়রদের কাছে জুনিয়ররা শিখবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে জুনিয়রদের কাছেও সিনিয়ররা শিখবে এইভাবে নতুন পুরাতন মিলিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে ।
৪। আয়োজক পরিচয় করিয়ে দিবে তার পেসারকে রানারদের সাথে এবং এই পরিচয় পর্বের সাথে সাথে হতে পারে একটা ট্রেইনিং ক্যাম্প করে, রানারদের সাথে একই ট্র্যাকে রানারদের দৌড়ের/ ট্রেইনিং এর ব্যাবস্থা করার মাধ্যমে রানার/ পেসারের প্র্যাক্টিস হয়ে গেলো আর দুই পার্টি নিজেদের চিনে নিলো, সব চেয়ে ভালো দিক হবে, রানার বুঝে নিলো কোন পেসারের সাথে তার বন্ডিং ভালো হবে ।
৫। এই ব্যাস্ত সময়ে অনেক সময় সরাসরি যোগাযোগ করা বেশ কঠিন হয়ে যায়, সেই ক্ষেত্রে আয়োজক ভিন্ন ভিন্ন পেস বাসের জন্য গ্রুপ খুলে দিতে পারেন যেখানে রানার/ পেসার নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলবেন, ট্রেইনিং প্ল্যান শেয়ার করবেন ।
৬। পেসারের কাছ থেকে পেসিং প্ল্যান মোটামুটি ২ সপ্তাহ আগে নিয়ে তা গ্রুপে জানিয়ে দেয়া যাতে রানাররা সেই অনু্যায়ী প্রস্তুতি নিতে পারে ।
৭। আয়োজক পেসারদের সাথে কথা বলে তার কি কি ধরনের সাপোর্ট লাগবে রেস চলাকালিন বা রেসের আগে তা প্রোভাইড করতে পারে ।
৮। পেসারদের মধ্যে যে কেউ অসুস্থ হইতেই পারে সেই ক্ষেত্রে এক পেস বাসে দুই জন পেসার সিলেক্ট করতে পারেন আয়োজক, এটা ব্যাকাপ প্ল্যান হিসেবে কাজ করবে ।
পেসারের ভূমিকা/ দায়িত্বঃ
১। পেসার হিসেবে দৌড়বিদের প্রথমেই, নিজের গতি বা পেসের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে, পেসের ওপর গ্রিপ থাকলে তবেই সে রানারদের নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গতিতে এগিয়ে যেতে পারবে, এটার জন্য অভ্যাসের বিকল্প নেই, সপ্তাহের প্র্যাক্টিস ডে গুলোতে কখনো ইজি রান, কখনো নেগেটিভ স্প্লিট, কখনো পজিটিভ স্প্লিট, কখনো স্টেডি পেস এই ভাবে প্রস্তুত করতে হবে নিজেকে ।
২। নিজেকে রেস রেডি আর সুস্থ রাখা পেসারের এর পরের সবচেয়ে বড় রেসপন্সিবিলিটি, তাই সবার আগে থেকেই নিজেকে সুস্থ রাখা, হাইড্রেটেড রাখা পেসারের কাজ ।
৩। মানবিক হওয়া, একই সাথে নিজের পেস বাসের রানারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, কার কি সুবিধা হচ্ছে বা অসুবিধা হচ্ছে এটা বুঝে রানারদের হেল্প করা একই সাথে পেস টাইমিং ঠিক রাখা পেসারের মূল কাজ ।
৪। পেসিং প্ল্যান ডিজাইন এবং সেটা রেসের সময় স্মার্ট ভাবে কাজে লাগানো। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক সময় কিছু প্ল্যান পরিবর্তন করা লাগতে পারে, তাতক্ষনিক ভাবে সেগুলো নিয়ে নিজেদের টার্গেটের দিকে এগিয়ে যাওয়া। উদাহরণ দেই, পেস বাসের কেউ হুট করে সিক হয়ে গেলো, পেসার একটা নির্দিষ্ট সময় তার জন্য বরাদ্দ করতে পারে আর একই সাথে বাকিদের এগিয়ে যাইতে বলতে পারে, যদি ওই সময়ে সেই রানার সুস্থ না হয় তবে ভলেন্টীয়ারের কাছে তাকে দিয়ে পেসারের দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার গ্রুপে জয়েন করতে পারেন ।
৫। রানারদের সাথে সাথে নিজের হাইড্রেশন আর নিউট্রিশন নিশ্চিত করা রেস চলাকালিন, রানার যখন দেখবে আমার পেসার পানি খাচ্ছে সে ও তাই কপি করবে, বা আমার পেসার ইলেকট্রোলাইট নিচ্ছে আমি ও নেই ।
৬। নিজের পেসিং ফ্ল্যাগ বিব ইত্যাদি দৃশ্যমান রাখা এবং রেসের স্টার্ট পয়েন্টে আগে গিয়ে দাঁড়ানো সময় নিয়ে রানারদের সাথে কথা বলা মোটিভেট করা, ওয়ার্ম আপ সেরে নেয়া ।
৭। রেস ট্র্যাকের খুটিনাটি সব আগে ভাগে জেনে নেয়া এবং তা মাথায় রাখা, যদি কোন এলিভেশন থাকে তবে রানারদের আগেই বলে দেয়া ।
৮। রেসের সময় রানারদের অবস্থা বুঝে যদি মনে হয় কয়েকজন ভালো অবস্থায় আছে আর আরও দ্রুত এগিয়ে গেলে তাদের ভালো টাইমিং আসবে তবে তাদের উদ্ভুদ্ধ করা এগিয়ে যাবার জন্য আর যদি কারও কারও অবস্থা খুব খারাপ মনে হয় তবে তাদের অনুরোধ করা যে পেছনের পেসারের সাথে আগানো ।
৯। যদি সামনে ক্যামেরা থাকে তবে রানারদের স্মৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করতে একটু আলাদা হয়ে সবাইকে ফ্রেম বন্দী হবার সু্যোগ করে দেয়া ।
১০। সব শেষে স্থির/ হাঁসি খুশি আর এক্সেসেবল থাকা পেসারকে দেখে যেন রানারের নার্ভাসনেস কেটে যায় আর সে যেন সহজেই কথা বলতে পারে পেসারের সাথে, রেস চলাকালিন ভিন্ন ধরনের হালকা কৌতুক বলতে পারে, যেমন দৌড়ের পর কাচ্চি দিবে বা পিজ্জা দিবে ইত্যাদি ইত্যাদি । পেসার শেলফ লেস/ নিঃস্বার্থ হইলে এই কাজ গুলো করা খুব সহজ হয় ।
রানারের ভূমিকা/ দায়িত্বঃ
১। যে কোন আয়োজনের মূল প্রাণ হলো রানার, আর আয়োজন তখনি পূর্ণতা পায় সব রানার যখন সুস্থ ভাবে রেস শেষ করতে পারে। তাই রানারের প্রধান কাজ হলো যে রেসের জন্য সে রেজিষ্ট্রেশন করেছে আর সেটা নিয়ে তার যে টার্গেট, সেই অনু্যায়ী নিয়মিত প্র্যাক্টিস করা, একটা উদ্দেশ্য থাকলে সেই অনু্যায়ী প্রস্তুতি নেয়া সহজ হয়, নিজের ইজি রান গুলো ইজি ভাবে করা, স্ট্রেন্থ ট্রেইনিং করা, রেস্ট নেয়া, ভালো খাবার খাওয়া, ভালো ঘুমানো রানারের একান্ত কর্তব্য কারণ, দৌড় তাকে ফিট থাকতে হেল্প করবে যদি সে বুঝে শুনে ট্রেইনিং করে আর না বুঝে করলে অসুস্থ হবার সম্ভাবনা বেশি ।
২। নিজের টার্গেট অনুযায়ী নির্দিষ্ট পেসারের সাথে পরিচিত হওয়া এবং পেসিং প্ল্যান জেনে নেওয়া রানারের কাজ । পেসার যে প্ল্যান দিবে তা ফলো করতে হবে প্র্যাক্টিস রানের সময় তবেই ভালো ফলাফল হবে ।
৩। পেসারের সাথে ট্র্যাকে যোগাযোগের পাশাপাশি নিজেকে মোটিভেট করা পেসারকে বিশ্বাস করা, সে যে স্যাক্রিফাইসটা করছে তা সম্মান করে হলেও নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত তার সাথেই থাকা এবং শেষ কয়েক কিলোমিটারে এসে যদি মনে হয় আরও দ্রুত গেলে সে তার সেরা টাইমিং বা রেজাল্ট অর্জন করতে পারবে তবে, পেসারকে তা জনিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া ।
৪। অসুস্থ বোধ করলে পেসারকে তা জানানো এবং যদি পসিবল না হয় তবে সরি বলে পেছনের পেসারের সাথে আগানো ।
৬। নির্ভার থাকা, যেহেতু পেসার আছে তাকে ফলো করে দৌড়টা উপভোগ করা রানারের জন্য সব চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত ।
এখানেই প্রাথমিক আলাপ শেষ এর পরের পর্বে ইচ্ছে আছে ভিন্ন ভিন্ন পেসিং স্ট্রাটেজি আর পেসিং প্ল্যান আরও যা যা মাথায় আছে সেগুলো নিয়ে কথা বলার একই সাথে যদি আরও ভালো লাগে তবে একটা বিন্দুর মধ্যে সিন্ধু টাইপ ভিডিও বানাইতে চাই । বাংলায় দৌড়ের কনটেন্ট অনেক কম এগুলো অনেক বেশি হোক এটাই চাওয়া। এই লেখার মূল ভিত্তি হলো আমার অল্প বিস্তর স্টাডি আর নিজের করা পেসিং অভিজ্ঞতা, ভুল থাকতে পারে, সেটা নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি আর আরও গঠনমূলক লেখা লিখতে পারি রানারদের জন্য ।
পেসিং জবের প্রাথমিক আলাপের পর এটা শেষ অংশ যেখানে মূল ফোকাসটাই থাকবে পেসারের ভিন্ন ভিন্ন স্ট্র্যাটেজি আর পেসিং মেথড নিয়ে, এখানেও আমি চেষ্টা করবো আমার নিজের জানা শোনা মেথড আর স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কথা বলতে, এখানেও ওপেন স্পেস থাকবে কথা বলার যাতে আমরা সবাই শিখতে পারি জানতে পারি, নতুন কিছু।
১। সবার প্রথমেই আসে বহুল প্রচলিত আলোচিত ইভেন স্প্লিটস:
এই মেথডে ডিসটেন্সকে ভাগকরে নিয়ে, প্রতি কিলোমিটার বা মাইল একই গতিতে আগায় পেসার। যেমনঃ যদি কোন পেসার ৬০ মিনিটে ১০ কিলোমিটারের পেসিং করে, তবে এই ইভেন স্প্লিটসে সে প্রতি কিলোমিটার ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে আগাবে এবং টোটাল দূরত্ব একই গতিতে আগাবে, আর ২০ সেকন্ড যেটা সে হাতে রেখেছে, সেটা সে হাইড্রেশন ব্রেকে কাজে লাগাবে। এই পদ্ধতি রোড রানিং এর ক্ষেত্রে বহুল ভাবে ব্যাবহার হয়, এবং যদি রেস ট্র্যাক ইভেন হয় কোন এলিভেশন না থাকে তবে খুবই ইফেক্টিভ ভাবে কাজে লাগানো যায় রানার আর পেসারদের জন্য।
২। এর পর কথা বলা যায় পজেটিভ স্প্লিট নিয়েঃ
প্রথমে দ্রুত শুরু করে দল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে পরে ধীরে সুস্থে ফিনিশিং লাইন ক্রস করা হয় এই পেসিং ধরনে । রেসের শুরুতে যদি এমন হয় যে রোদ উঠে তাপমাত্রা বেড়ে যাইতে পারে বা আবহাওয়া খারাপ হবার সম্ভাবনা থাকে তবে এই প্রক্রিয়ায় আগানো ভালো। কিন্তু প্রথমেই দ্রুত শুরু করা ইঞ্জুরির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়, যদি প্রপার ওয়ার্ম আপ না করা থাকে রানারদের। আর একই সাথে প্রথমেই দ্রুত শুরু করার ফলে অনেকেই শেষ দিকে দুর্বল বোধ করতে পারেন। ফাইনালি, ফ্ল্যাট ট্র্যাকে এই পদ্ধতি চলনসই কিন্তু পাহাড়ী রাস্তায় তেমন উপযোগী না ।
৩। বিখ্যাত নেগেটিভ স্প্লীটঃ
শুরুতে ধীরে শুরু করে আস্তে আস্তে শক্তি সঞ্চয় করে গতি বাড়াতে থাকা এবং শক্তিশালী ভাবে রেস শেষ করাই এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য । যারা একটু অভিজ্ঞ রানার তাদের জন্য এই পদ্ধতি খুবই ভালো। রেস ট্র্যাক যদি চ্যালঞ্জিং ও হয় তবে ছোট রেসের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি উপকারি এবং ভালো ফলাফল দেয় কিন্তু লম্বা দূরত্বে তেমন ফলপ্রসু হয় না ।
৪। সুইপিং পেসিং স্ট্র্যাটেজিঃ
এখানে ঝাড়ুদাড়ের মতো পেসার পিছিয়ে পরা সব রানারদের মোটিভেট করে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সুস্থ ভাবে ফিনিশিং লাইন ক্রস করতে হেল্প করবে। এখানে পেসার স্লো এবং স্টেডি পেস ধরে রেখে আগাবেন যাতে যারা নতুন বা বয়স্ক রানাররা তাকে ফলো করে তাদের রেস শেষ করতে পারে। এখানে পেসারকে অনেক বেশি ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিতে হয় একই সাথে রানারদের প্রয়োজন অনুযায়ী আগে পিছে এগিয়ে তার পেসিং জব ফিনিশ করতে হয় । কোথাও ৩ ঘণ্টা রেসের কাট অফ টাইম হলে, সুইপার ২:৫৫-৩:০০ ঘণ্টার মধ্যে দল নিয়ে রেস শেষ করেন। ব্যাক্তিগত ভাবে এটা আমার প্রিয় স্ট্র্যাটেজি।
৫। পাইলট পেসিং স্ট্র্যাটেজিঃ
এই স্ট্র্যাটেজিতে, একই গ্রুপে একাধিক পেসার থাকেন, একজন থাকেন সবার সামনে যিনি পেসিং প্ল্যানের চেয়ে একটু দ্রুত গতি ধরে রাখেন, যারা অভিজ্ঞ রানার তারা তাকে ফলো করেন, এর পেছনেই আর একজন পেসার থাকেন যিনি একটা স্টেবল পেসে আগান, যারা একটু দ্বিধা দ্বন্দে থাকেন তারা মাঝের পেসারকে ফলো করেন আর শেষে থাকেন আরেকজন বা গ্রুপের শেষ পেসার পিছিয়ে পরা রানারদের ধরে এগিয়ে যাওয়াই হবে এই গ্রুপের শেষ পেসারের কাজ। লম্বা রেসে এই ধরনের পেসিং স্ট্র্যাটেজি খুবই বিখ্যাত ।
৬। র্যাবিট পেসিং স্ট্র্যাটেজিঃ
কোন এক বা একাধিক ভালো অ্যাথলেটকে তাদের টার্গেট টাইমের ভেতরে রেস শেষ করতে সাহায্য করাই হলো মূল উদ্দেশ্য, ধরা যাক- একদল এলিট অ্যাথলেট ঠিক করলো তারা ২ ঘণ্টায় তাদের ফুল ম্যারাথন শেষ করবেন, তখন এই
পেসিং স্ট্র্যাটেজি ফলো করে, প্রথমে একদল পেসারদের দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত তার পর, তারা সরে গিয়ে নতুন পেসার গ্রুপকে জায়গা করে দিবেন পরবর্তী ২০ কিলোমিটারের জন্য, শেষ দুই কিলোমিটার রানাররা নিজেদের বেস্টটা দিয়ে পুশ করবেন !
কীপচোগের সাব টু হাওয়ার ম্যারাথন এটেম্পটে এই স্ট্র্যাটেজি ফলো করেছিলেন, পেসাররা সামনে তীরের মতো শেপে থেকে কীপচোগেকে এক ধরনের বাড়তি সুবিধাও দিয়েছিলেন!
নতুন পুরাতন এমন আরও অনেক পেসিং পদ্ধতি/ স্ট্যাটেজি আছে, যেগুলো মোটামুটি আলোচনা করা বিষয় গুলোর মিশ্রণ বলা যায়, তাই সেগুলো নিয়ে কথা বলবো না আপাতত ।
এখন, রেসের ধরণ, রেস ট্র্যাকের ধরণ, আবহাওয়া সব কিছু বিবেচনা করে আগেই পেসার ঠিক করবেন তিনি কোন মেথড/ স্ট্র্যাটেজি ফলো করবেন এবং একই ভাবে তৈরি করবেন তার পেসিং প্ল্যান, এই পেসিং প্ল্যান তিনি শেয়ার করবেন আয়োজক বা রানারদের সাথে। এর পরের অংশ হতে পারে, ভিন্ন ধরনের ট্রেইনিং, যেখানে পেসার রানারদের নিয়ে প্রস্তুতি মূলক ওয়ার্ম আপ, সেইম স্ট্র্যাটেজিতে দৌড় দিয়ে কথা বলে পরিচয় পর্ব সেরে নিবেন ।
পেসার যে পদ্ধতি অনুসরন করুন না কেন, তাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, তিনি হাইড্রেশন বুথ গুলোতে থামছেন কিনা, রানারদের হাইড্রেশন নিতে হেল্প করছেন কিনা, একই সাথে কেউ অসুস্থ বোধ করলে তার সাথে কথা বলে তাকে মোটিভেট করা বা তাকে ভলেন্টিয়ারদের হাতে তুলে দেয়ার মতো সময় তার পেসিং প্ল্যানে আছে কিনা ।
পেসিং খুবই সুন্দর মানবিক একটি ভলেন্টিয়ারিং জব, যা দৌড়ের সৌন্দর্য অনেক বাড়িয়ে দেয়। আর যেহেতু তার ওপর নির্ভর করে অনেক রানারের সাফল্য তাই পেসারকে অনেক বেশি সহনশীল আর তার রানাদের সাথে যোগাযোগের ব্যাপারে দক্ষ হওয়া খুবই জরুরী, আপনার কঠিন সময়ে আপনি নিজে হাসিখুশি থাকার পাশাপাশি যদি অন্য কাউকে হাঁসাতে পারেন তবে এর চেয়ে ভালো কিছু নাই । এই জন্যেই দৌড় সুন্দর, পেসিং আরও সুন্দর, হ্যাপি রানিং, হ্যাপি পেসিং।
আমার ভিষন রকম ইচ্ছে ছিলো, আমাদের দেশে পেসারদের নিজেদের একটা গ্রুপ হবে যেখানে সবাই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবে এবং একদিন ভিন্ন ভিন্ন বিখ্যাত বাইরের ইভেন্ট থেকে আমাদের পেসারদের ইনভাইট করা হবে পেসিং করার জন্য, যেহেতু আমরা এখনো শিখছি, হতেও পারে এই জিনিস সত্যি ! রুবা তালুকদার আপুকে আমার খুবই ভালো লাগে, উনি লন্ডন ম্যারাথনে পেসিং করেছিলেন যা আমাকে খুবই গর্বিত করেছে !
যদি পেসিং ট্রেইনিং/ গ্রুমিং নিয়ে কখনো কাজ করার সুযোগ হয় তবে খুবই ভালো লাগবে।
শেষে রুবা আপুর একটা গল্প শেয়ার করে যাই, Runners World উনাকে ফিচার করেছিলো, লিংক নিচে দিচ্ছি, উনার দৌড়ের গল্প আমাকে অনেক মোটিভেট করে, দৌড়ানোর কারন হিসেবে উনি যা বলেছেনঃ
Reasons for running: For mental health; for 'me' time; to inspire Asian and Muslim women to be more active and experience the joys of running
আমি যদি পারি আপনিও পারবেন ।
Karma Rating
5.0 / 5 · 1 ratingLog in to give Karma Points.
This content has contributed 5 Karma Points to its author.